
হঠাৎ দেখে মনে হবে বুঝি হাইলাইটস চলছে। দুই দলের ৩৯ ওভারে রান হলো ৫২৯। কেবল বাউন্ডারি থেকেই এলো ৩৯৪ রান। মোট ছক্কা ৩৩, চার ৪৯। দিল্লির অরুন জেটলি স্টেডিয়ামে আজ চার-ছক্কার মুষলধারে বৃষ্টি নামিয়ে আনল দিল্লি ক্যাপিটালস ও পাঞ্জাব কিংস।
প্রথমে নিজেদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান করে হয়তো বেশ তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছিল দিল্লি। তবে ব্যাটারদের রান উৎসবের দিনে পাঞ্জাব তো আর বসে থাকবে না! আইপিলের রেকর্ড বইয়ের পাতা ওলট-পালট করে দিয়ে ৭ বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত করল তারা।
আইপিএলে রেকর্ড বন্যার দিনে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ২ উইকেটে ২৬৪ রান করে দিল্লি। জবাবে ৬ উইকেট আর ৭ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পাঞ্জাব। আইপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান করে জয়ের রেকর্ড গড়ল তারা। এর আগের রেকর্ডটিও অবশ্য পাঞ্জাবেরই। এর আগে ২০২৪ সালে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে ২৬২ রান তাড়া করে জিতেছিল দলটি।
বৃথা গেল লোকেশ রাহুলের ৬৭ বলে অপরাজিত ১৫২ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস। ৬ চার আর ৯ ছক্কায় সাজানো দিল্লির এই ব্যাটারের টর্নেডো ইনিংসই আইপিএলে ভারতীয়দের মধ্যে সর্বোচ্চ। শুধু আইপিএলই নয়, টি–টুয়েন্টি ক্রিকেটেই ভারতের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে এর চেয়ে বড় ইনিংস ইনিংস আর কারও নেই। আইপিএলে এর আগে ভারতীয়দের সর্বোচ্চ ছিল অভিষেক শর্মার ১৪১।
রাহুলকে যোগ্য সঙ্গ দেন ৪৪ বলে ৯১ রানের ইনিংস খেলা নিতিশ রানা। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে রানার সঙ্গে রাহুল গড়েন ২২০ রানের অবিস্মরণীয় জুটি। যা আইপিএলের ইতিহাসে যে কোনো উইকেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড।
দিল্লির রান পাহাড়ের জবাবটা যেন হেসেখেলেই দিল পাঞ্জাব। যেখানে পাওয়ার প্লেতে দিল্লির স্কোরবোর্ডে ছিল ৬৮ রান, সেখানে ৬ ওভার শেষেই ১১৬ রান তুলে নেয় পাঞ্জাব। ২৯২ স্ট্রাইকরেটে ২৬ বলে ৭৬ করেন প্রাভসিমরান সিং। আরেক ওপেনার প্রিয়ানশ আরিয়ার ব্যাট থেকে আস ১৭ বলে ৪৩ রান। দুই ওপেনারের বিদায়ের পর পাঞ্জাবকে পথ দেখান শ্রেয়াস আইয়ার। ৩৬ বলে ৭১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন তিনি।